শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ শৈশব ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কুষ্টিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘শিশু অধিকার দিবস’। একইসঙ্গে মহাসমারোহে উদযাপিত হচ্ছে দেশের শিশুদের মনন বিকাশ ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি’র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০ টার সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিশু একাডেমির বাস্তবায়নে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশের মতো কুষ্টিয়াতেও এসব বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শিশুরাই আমাদের আগামীর বাংলাদেশ। তাদের সুরক্ষায় যথাযথ পরিবেশ তৈরি, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—আমাদের সকলের যৌথ দায়িত্ব।"
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনা সভা ও উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান এবং পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা (অ.দা.) আশ্রাফুল ইসলাম সিফাত, কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুছ আলীর,কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের অধিকার রক্ষা কেবল তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাদের নিরাপত্তা, সুস্থ পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সুষ্ঠু সামাজিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সুন্দর ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা ও সামাজিক দায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন প্রসঙ্গে বক্তারা উল্লেখ করেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক শিক্ষা প্রসারে শিশু একাডেমি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে শিশুদের প্রযুক্তিগত ও আধুনিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন কর্মপরিকল্পনার বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।
আয়োজকদের মতে, শিশু অধিকার সম্পর্কে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সুন্দর পরিবেশ উপহার দেওয়াই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় শিশুদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে অনুষ্ঠানে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









