রাজশাহী মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় অনুমোদনহীন ১০ তলা ভবনের ছাদে নির্মিত সুইমিংপুল উচ্ছেদ করতে গিয়ে ভবন মালিকের চরম বাধার মুখে পড়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। এ সময় অভিযানের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে ‘দেখে নেওয়া’ ও ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভবন মালিক আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার ‘আল রাইশা টাওয়ার’ নামের একটি ভবনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আরডিএ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির ছাদে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই একটি সুইমিংপুল নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর অবৈধ ওই স্থাপনাটি অপসারণের জন্য ভবন মালিককে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি।
পরে মঙ্গলবার দুপুরে আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মালিক আব্দুর রশিদকে প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি তা অমান্য করেন এবং গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রশিদ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে বলেন, “ভিতরে প্রবেশ করলে দুই-চারটে খুন হলে তার দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেট আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রধান ফটক ভেঙে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ভবনের ছাদে গিয়ে অনুমোদনহীন সুইমিংপুলের সত্যতা পাওয়া গেলে তা ভেঙে ফেলা হয়।
সুইমিংপুল ভেঙে ফেলার সময় ভবন মালিক আব্দুর রশিদ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে উদ্দেশ করে বলেন, “সুইটের বড় পাওয়ার, সে আরডিএ চেয়ারম্যান। আপনাদের পাঠিয়েছে ভাঙতে, আপনারা ভাঙেন। সুইটকে দেখে নেব আমি, সুইটকে খেয়ে নেব।”
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, ভবনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু মালিকপক্ষ সহযোগিতা না করায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। ছাদে অতিরিক্ত পানির ওজনের কারণে পুরো ভবনে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অবৈধ সুইমিংপুলটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুর রশিদের আচরণ বরাবরই আক্রমণাত্মক এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গেও তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করে থাকেন। এদিকে পুরো ঘটনার বিষয়ে ভবন মালিক আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









