নাটালি হার্প সহকারীর পদ ছাড়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দৃষ্টি পড়েছে আরেক সহকারী মার্গো মার্টিনের ওপর। অবশ্য নাটালি হার্পের প্রতি ট্রাম্পের দুর্বলতা এখনো আছে। গত চার/পাঁচ দিনে তার দুই নারী সহকারী—মার্গো মার্টিন ও নাটালি হার্পের প্রতি প্রকাশ্যে অনুরাগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি। ওকলাহোমার এক সমাবেশে বিশেষ যোগাযোগ উপদেষ্টা মার্গো মার্টিনের সৌন্দর্য ও আনুগত্যের ভূয়সী প্রশংসা করার ঠিক চার দিন পর, নেব্রাস্কায় আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে তিনি তার আরেক সহকারী নাটালি হার্পকে মঞ্চে ডেকে এনে নিজের গভীর আস্থার কথা তাকে ফের জানান।
ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ সহকারী দুজনেই ওয়াশিংটনে বেশ প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। এমনকি সম্প্রতি বড়দিনের উপহার হিসেবে ট্রাম্প তাদের মোটা অঙ্কের অর্থও প্রদান করেছেন। হোয়াইট হাউসের রাজনীতিতে এ ঘটনাকে ট্রাম্পের সান্নিধ্য ও আস্থা অর্জনে দুই সহকারীর মধ্যকার এক ধরনের ‘আনুগত্যের প্রতিযোগিতা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে—যেখানে ট্রাম্প কৌশলে সরাসরি কাউকে বেছে না নিয়ে উভয়ের সাথেই ভারসাম্য বজায় রাখছেন।
নেব্রাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটস এবং অন্যদের পক্ষে প্রচার চালাতে ৫ অক্টোবর সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে বক্তৃতাকালে তিনি 'হিউম্যান প্রিন্টার' নামে পরিচিত নারী সহকারী নাটালি হার্পকে নথি গ্রহণের জন্য মঞ্চে ডেকে নেন। এর মাধ্যমে তিনি চলমান বিতর্ক সত্ত্বেও তার প্রতি নিজের অটুট জনসমক্ষে আস্থার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। কালো রঙের হাতাছাড়া পোশাক পরা হার্প চওড়া হাসিতে এর সাড়া দেন।
এই দৃশ্যটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। কারণ, চার দিন আগে ওকলাহোমার এক সমাবেশে ট্রাম্প তার যোগাযোগ উপদেষ্টা মার্গো মার্টিনকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মার্টিন, যিনি প্রধান প্রধান অনুষ্ঠানগুলোতে ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকেন এবং নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন, তাকে ট্রাম্প বারবার ‘সবচেয়ে সুন্দরী আলোকচিত্রী’ হিসেবে প্রশংসা করেন। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার সাথে চেহারার সাদৃশ্যের জন্যও তিনি পরিচিত।
ঐ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প মার্টিনকে মঞ্চে তুলে নিয়ে বলেন, ‘যদিও এটি বললে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে, তবুও বলব—সে সত্যিই অনুগত, আন্তরিক এবং ভেতর-বাইরে সমান সুন্দর।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সত্যিই আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।’ মার্টিনের মা-বাবাও ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশ দেখতে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
হার্প এবং মার্টিন দুজনই ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের অত্যন্ত প্রভাবশালী বা 'ডোর-নব' ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে জানা যায় যে, গত বছর ক্রিসমাস উপহরের ছলে ট্রাম্প তাদের ৪৫,০০০ ডলার নগদ উপহার দিয়েছিলেন, যা তাদের বার্ষিক বেতনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
এর মাঝেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয় যে, ‘ট্রাম্প যখন মার্টিনের চেহারা ও আনুগত্যের প্রশংসা করছিলেন, তখন হার্পকে মঞ্চের পাশ থেকে তা দেখতে হয়েছিল।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









