সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের অর্থ নির্ধারিত খাতে জমা না দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন এবং পুরোনো রশিদ গোপন করে নতুন রশিদ তৈরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রধান শিক্ষককে দেওয়া বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের কাজে দুই দিনের জন্য সিলেট শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার কথা বলে তিনি বিদ্যালয় থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরে গভর্নিং বডি জানতে পারে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুরারী চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৭, ৪০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ওই মামলায় আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান বলে বরখাস্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি গভর্নিং বডিকে অবহিত না করার অভিযোগও করা হয়েছে।
বরখাস্তের চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ৪ জুলাই বিজ্ঞানাগারের মালামাল কেনার জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে স্কয়ার সায়েন্টিফিক কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। মালামালের মূল্য পরিশোধের জন্য ৫৮ হাজার টাকার একটি যৌথ স্বাক্ষরিত চেক প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি চেকটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমা না দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ দুই দফায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা দেওয়া হলেও ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি ৭ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের আয় খাতে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ২ জুন স্কুল শাখার প্রয়োজনে কলেজ শাখা থেকে দেওয়া ৩১ হাজার টাকাও প্রতিষ্ঠানের আয় খাতে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের আরও একটি অংশে বলা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ অডিট শুরু হলে প্রধান শিক্ষক গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দার একটি দোকান থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে ১০টি রশিদ বই ছাপিয়ে আনেন। পুরোনো রশিদ বই গোপন করে কম টাকা উল্লেখ করে নতুন রশিদ তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। এ কাজে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী সহযোগিতা করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও লিখিত দলিল সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছে গভর্নিং বডি।
লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগগুলো গভর্নিং বডির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









