কোথা থেকে এসেছে, কেউ জানে না। কোথায় তার আপনজন, সেটিও অজানা। শুধু গাছের ডালে বসে কখনো এদিক-ওদিক তাকিয়ে থাকে, আবার কখনো মানুষের ভিড় দেখে নীরবে সরে যায় আরও উঁচুতে।
নিচে ঘুরে বেড়ায় কুকুরের দল। আর ওপরে একটি গাছের ডালে একাকী বসে থাকা হনুমানটির চোখেমুখে যেন অচেনা এক ভয়ের ছাপ। পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কুমড়াডাঙ্গা মহল্লায় কয়েকদিন ধরে এমনই দৃশ্যের দেখা মিলছে।
স্থানীয়দের ধারণা, দলছুট এই হনুমানটি ভারত থেকে কোনো একসময় পণ্যবাহী ট্রাকে উঠে বাংলাদেশে চলে আসতে পারে। এরপর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে অবশেষে এসে আশ্রয় নিয়েছে কুমড়াডাঙ্গার একটি গাছে।
কখনো খাবার জুটেছে, কখনো জোটেনি। তবু মানুষের বসতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রাণীটি। স্থানীয়রা কাছে গিয়ে খাবার দিতে চাইলেও সহজে কাছে আসছে না। কেউ খাবার হাতে এগিয়ে গেলে দূরত্ব বাড়িয়ে গাছের আরও ওপরে উঠে যায়। যেন মানুষের ভালোবাসাও তার কাছে এখনো অচেনা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, হনুমানটিকে দেখে তাদের মায়া লাগছে। কেউ কলা বা অন্য খাবার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ভয় পেয়ে সেটি কাছে আসছে না। অনেকক্ষণ গাছের ডালে বসে থাকার পরও নিচে নামতে সাহস করছে না। সবচেয়ে বড় ভয় যেন নিচের কুকুরগুলো। গাছের নিচে কুকুরের আনাগোনা দেখলেই হনুমানটি সতর্ক হয়ে যায়। তাই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গাছের ডালকেই বেছে নিয়েছে। দিনের পর দিন এভাবেই কাটছে তার। একসময় হয়তো নিজের দলের সঙ্গে ছুটে বেড়াত, গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে বেড়াত। আজ সে একা-অচেনা পরিবেশে, অচেনা মানুষের মাঝে। তার ভাষা কেউ বোঝে না, সে-ও বোঝে না মানুষের ভাষা। শুধু দূর থেকে তাকিয়ে থাকা আর গাছের ডালে নীরবে বসে থাকাই যেন এখন তার জীবন।
স্থানীয়দের অনেকেই চান, হনুমানটিকে যেন কেউ বিরক্ত না করে। নিরাপদে খাবার দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বন বিভাগের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
কারণ, এটি শুধু একটি দলছুট প্রাণী নয়-অচেনা এক জনপদে হারিয়ে যাওয়া একটি প্রাণের গল্প। যে প্রাণীটি হয়তো এখনো খুঁজছে তার আপন দল, পরিচিত বন আর নিরাপদ একটি আশ্রয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









