পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত হলেই কেবল বাংলাদেশ কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বিমান কেনার সিদ্ধান্তও সরকার জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনা করেই নিয়েছে।’
গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে ১০টি বিমান সংগ্রহের চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের অনুকূল নয়- এমন কোনো চুক্তিতে আমরা স্বাক্ষর করি না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে; কোনো রাষ্ট্রদূত বা বন্ধুপ্রতিম দেশকে খুশি করার জন্য নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজনীয়তা মেটাবে বলেই সরকার এই চুক্তি করেছে। কাউকে খুশি করার জন্য বাংলাদেশ কোনো চুক্তি করে না; প্রয়োজন আছে বলেই তা করে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে করা একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে এয়ারবাস বা অন্য যেকোনো সহযোগীর সাথে অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি হবে।
‘আমাদের যা প্রয়োজন, তা হলো একটি শক্ত ব্যবসায়িক ভিত্তি,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনিভাবে যথাযথ ও ত্রুটিমুক্ত বিবেচিত হলে সরকার চুক্তি সই করতে সবসময় প্রস্তুত।
এই ক্রয় চুক্তির আওতায় রয়েছে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ সুপরিসরের বিমান এবং আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য ছয়টি এ৩২১নিও স্বল্পপরিসরের বিমান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এসব বিমান যুক্ত হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিমান সংগ্রহ কার্যক্রমটি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহর আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি কৌশলের একটি অংশ। জ্বালানি-সাশ্রয়ী এসব বিমান সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, রুট নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিমান সংগ্রহ কার্যক্রমটি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহর আধুনিকীকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ। জ্বালানি-সাশ্রয়ী এসব বিমান সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়ানো, রুট নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচনার সফল সমাপ্তির জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এয়ারবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বর্তমানে সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজে বিনিয়োগ করার লক্ষ্য যোগাযোগব্যবস্থা ও বিশ্বমঞ্চে আমাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।’
তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় অংশীদার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, উন্নয়নের যাত্রাপথে এই অংশীদাররা সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার প্রয়োজন ও স্বার্থ অনুযায়ীই বাণিজ্য পরিচালনা করে।’ এসময়, তিনি ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছা উভয়পক্ষের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে এবং আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে আমাদের মাঝে আরও অনেক ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।’
এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগাও উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









