রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আগামীকাল রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। এতে সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ায় দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো সেনাবাহিনী তল্লাশির নামে নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে হয়রানি করছে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সাজেক পর্যটন সড়কে যানবাহন না চালানোর জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পর্যটক ও সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের পাশের দাড়িপাড়া থেকে গাড়িতে করে এসে মাচলং আর্মি ক্যাম্পের পাশে নামেন। পরে তারা ব্রিজপাড়া, নুওপাড়া ও শিবপাড়ায় অবস্থান নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা, স্থানীয়দের হুমকি ও গ্রামবাসীর সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করা হয়। তাদের গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা নামে নয় বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠন দুটির নেতাদের দাবি, সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকে অবস্থান করা পর্যন্ত এলাকায় অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করবে। সাজেকবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নতুন জয় চাকমা ও বাবুধন চাকমা।
এদিকে, অবরোধের ঘোষণা ঘিরে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অবরোধের কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিতে যাতায়াত ও পরিবহন চলাচলে কী প্রভাব পড়বে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, অবরোধের ঘোষণার মধ্যে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান গণমাধ্যমকে বলেন, “সড়ক অবরোধের কথা শুনেছি। নিরাপ
ত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় সকাল ১০টার দিকে সাজেকে থাকা পর্যটকেরা বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









