সরকারি চাকরিতে কর্মরত থেকেও রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলু। বরখাস্তের আদেশ পাওয়ার পরপরই চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মো. সফিউল্লাহ জগলু ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও সংযুক্তিতে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে জানা যায়, তিনি ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে তাঁর নাম আসার পরই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খানের সই করা অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর মো. সফিউল্লাহ জগলু চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২২ বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের গণমাধ্যমে বক্তব্য বা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে এই সংবাদ সম্মেলন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, ওই কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করেছেন—এমন বিষয় তাঁর জানা নেই। তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে যা বিভাগীয় চাকরির নিয়মের অংশ। তবে তিনি এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









