আজ ঐতিহাসিক ‘আবাইপুর দিবস’। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জেলাবাসীর জন্য আজ এক বেদনাবিধূর দিন। এই দিনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিকামী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য সেদিন পাকিস্তানি হায়েনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ১৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৪ জন সাধারণ মানুষ শহীদ হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দিনটি এক গৌরবোজ্জ্বল ও ত্যাগ গাঁথার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
‘৭১ এর এই দিনে শৈলকুপার আবাইপুর এলাকায় অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অসম ও তুমুল সম্মুখ যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৮জন।
তারা হলেন- শৈলকুপার শেখপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, বন্দেখালী গ্রামের আবুল হোসেন, সিদ্ধি গ্রামের আবু জাফর, দহকোলা গ্রামের ইসমাইল হোসেন, জাল শুকা গ্রামের চেতন জোয়ারদার, সুবিদাহ গোবিন্দপুর গ্রামের ইউসুফ আলী, দোহারো গ্রামের আলিমুদ্দিন, বরিয়া গ্রামের সিমার, বগুড়া গ্রামের আবু সুফিয়ান, মিনগ্রামের সিরাজুল, বরিয়া গ্রামের কাসেম আলী, খাসব গদিয়া গ্রামের আজিবর হোসেন, বরিয়া গ্রামের শাহাদত হোসেন ও কাজীপাড়ার বাবর আলী।
এছাড়া পাকিস্তানি বাহিনী গ্রাম ছাড়ার সময় তাদের সামনে পড়ে গেলে বরিয়া গ্রামের মকছেদ আলী, মিনগ্রামের শরীফুল ইসলাম, মাধবপুর গ্রামের রুস্তম আলী ও আবাইপুর গ্রামের সৈয়দ আলীকে হত্যা করে। যুদ্ধ শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা পরম শ্রদ্ধায় শহীদদের মরদেহ আবাইপুর প্রাঙ্গণে সমাহিত করেন। যা আজ মুক্তিকামী মানুষের কাছে লড়াই সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি পালনে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে আবাইপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাজার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণমূলক স্মরণ সভা।
ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান বলেন, ‘নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শৈলকুপার আবাইপুর যুদ্ধ ঝিনাইদহবাসীর জন্য এক পরম আত্ম ত্যাগের প্রতীক। নজরুল, আবুল, আবু জাফরদের মতো অকুতোভয় বীরদের রক্তেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। আমরা তাঁদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না। তবে শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক
আমাদের আজকের অঙ্গীকার। নতুন প্রজন্মকে আবাইপুরের মতো ঐতিহাসিক যুদ্ধগাথা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









