সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কাটেনি অবকাঠামোগত সংকট। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে ছাদের ঢালাই। এতে আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে ভবনটির দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিষখলা দাখিল মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট—দুই সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, একতলা একটি পুরোনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে। ছাদের ঢালাইয়ের অংশবিশেষও খসে পড়েছে। ঝুঁকির কারণে দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষের সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, একতলা ভবনটি ১৯৯৫ সালে সরকারি ফ্যাসিলিটি বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতেও বাধ্য হয়ে ভবনের অন্যান্য কক্ষে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
শুধু অবকাঠামোগত সংকট নয়, প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে শিক্ষকসংকটও। বর্তমানে মাদরাসাটিতে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ছয়টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির একজন এবং চতুর্থ শ্রেণির চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রেণিকক্ষের সংকট মোকাবিলায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে নির্মিত ছোট তিনটি টিনশেড ঘরেও পাঠদান চলছে। এসব কক্ষে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিনশেড কক্ষগুলোতে পাঠদান আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরোনো ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে ছাদের ঢালাই খসে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম দুটিই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. জয়নাল আবেদীন শেখ বলেন, ৫৮ বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা এ মাদরাসার অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঠদানের মানও উন্নত হবে।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান জানান, মাদরাসাটিতে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু না করায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ভবনটি চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবনটির ওপরের দিকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে দ্বিতীয় তলায় একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া মাদরাসা প্রকল্পের আওতায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাদরাসা ক্যাম্পাসে মসজিদ ও এতিমখানা থাকায় পর্যাপ্ত জায়গার সংকট রয়েছে। ফলে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের ক্ষেত্রেও জায়গার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









