পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে পরিবর্তন আসছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কারখানার অতিরিক্ত গরম কমানো এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন তাঁত উদ্যোক্তারা। এ উদ্যোগের আওতায় জেলার বিভিন্ন তাঁত ক্লাস্টারের প্রায় ৮০০ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাকে নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পাবনা প্রতিশ্রুতি’।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পাবনা সদর, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার জালালপুর, দোগাছী, একদন্ত, পুষ্পপাড়া, সুজানগর ও আতাইকুলাসহ বিভিন্ন তাঁতসমৃদ্ধ এলাকায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতির কারণে এসব এলাকার তাঁত কারখানায় অতিরিক্ত গরম, বিদ্যুতের অপচয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। এসব সমস্যা কমাতে উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে কারখানাগুলোতে ‘রিসোর্স এফিশিয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিনার প্রোডাকশন’ (আরইসিপি) পদ্ধতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতির আওতায় কম সম্পদ ব্যবহার করে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের পরিচ্ছন্ন উৎপাদন, জ্বালানি ও সম্পদ সাশ্রয়, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় কারখানায় প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ী বাতি, উন্নত ফ্যান এবং পানি ও অন্যান্য সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে কারখানার ভেতরের গরম কমানো, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বিদ্যুতের অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
তাঁত উদ্যোক্তা মো. বিপ্লব বলেন, “স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আরইসিপি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পাওয়ার পর আমরা কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। এর ফলে আগের তুলনায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে এবং কারখানার ভেতরের গরমও অনেক কমেছে। শ্রমিকরাও এখন তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশে কাজ করতে পারছেন।”
আরেক উদ্যোক্তা মো. রেজাউল হোসেন বলেন, “পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমাদের কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। ভালো কর্মপরিবেশের ইতিবাচক প্রভাব উৎপাদন কার্যক্রমেও পড়ছে।”
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁত উদ্যোক্তাদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়াতেও স্মার্ট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁতশিল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সম্পদের অপচয় কমানো এবং শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে। এর মাধ্যমে পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









