ধান, পাট, মুগডাল ও দিয়শলাইয়ের কাটির পর এবার ৩৫ হাজার মুক্তার আদলে তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরায় এক দুর্গাপ্রতিমা। আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের মুক্তাপুথি দিয়ে সাজানো হচ্ছে ১৪টি ব্যাতিক্রমধর্মী এই প্রতিমা।পূজার বাকি আর মাত্র সপ্তাহ খানেক এরই মধ্যে অজপাড়াগায়ের এই দূর্গা মন্দিরে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমিয়েছে । গেল বছর এই মাটির প্রতিমা তৈরি হলেও দর্শনার্থীদের আর্কশন করতে এবছর ব্যাতিক্রমী এই আয়োজন বলে জানান মন্দির কমিটির সদস্যরা। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের রং ও অলংকর সাজানোর কাজ।
মন্দির কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমার শরীর ও অলংকারে নিপুণভাবে বসানো হচ্ছে মুক্তাপুথি । এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা। ১৪টি প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিবছর দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার মুক্তার কারুকার্য ব্যবহার করা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে বড়দল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলা। এ আয়োজনে বড়দল বাজার, মধ্যম বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, বিষ্ণুপুর, ফাকরাবাদ পূর্বপাড়া, কইসিটি ও বুড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি মণ্ডপের প্রতিমা একত্র করে বিসর্জন দেওয়া হবে ।
দর্শনার্থীদের মধ্যে সুরেস কর্মকার, টুম্পা মণ্ডল, পবিত্র সরকার,অর্পিতা সরকার, শিখা রাণী সহ অনেক বলেন, প্রতিবছর এই এলাকায় দূর্গা উৎসব ঘিরে আমেজের সৃস্টি হয়েছে । এ বছর মুক্তা প্রতিমার কথা শুনে তারা দেখতে ছুটে এসেছেন।আমরা চাই সবাই এখানে আসুক, প্রতিমা দেখুক এবং আনন্দ করুক।
প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল বলেন, প্রায় আড়াই মাস ধরে ৪ জন শিল্পী প্রতিমার কাঠামো তৈরি, মাটির কাজ, রং ও মুক্তার কারুকার্য ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন। প্রতিমায় প্রায় মুক্তা পুথিতে ব্যায় হয়েছে ১ লাখ টাকা। আর এই পুথি সংগ্রহ করা হয়েছে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছরই প্রতিমায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন তারা। এবার দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশা ও নিজেদের পরিকল্পনা মিলিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। চারজন শিল্পীর ৫২ দিনের পরিশ্রমে ১৩টি প্রতিমায় প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সৌন্দর্য বদ্ধনের কাজ ।
বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবছর একটি ব্যাতিক্রমী প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে । ভারতের প্রতিমার থিমের আদলে ভাষ্করে সাথে পরামর্শ করে এই প্রতিমা নির্মান করা হচ্ছে ।এর জন্য প্রতিমা শিল্পিকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকার মত । ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিবছর নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হয়। এবার মুক্তার কারুকার্যের মাধ্যমে প্রতিমায় ভিন্নতা আনা হয়েছে প্রতিমায় ।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে পূজার আগেই মণ্ডপে আসছেন অনেকে। পূজার পাঁচ দিন সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উৎসব ঘিরে মণ্ডপের নিরাপত্তায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৈদ্য বলেন, এ বছর উপজেলায় মোট ১০৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নান্দনিক সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়ায় মুক্তার কারুকাজের পাশাপাশি ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে এবং বুধহাটা কাছারীবাড়ি ও দক্ষিণ বড়দলে ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আশাশুনির বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ৩৫ হাজার মুক্তার আদলে সাজানো ১৪টি প্রতিমা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, এবছর আশাশুনি উপজেলার ১০৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব মুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সাদা পোশাকের বিশেষ দল এবং আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









