বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৫ কিশোরকে আটক করে থানায় নেয় সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পুলিশের এ উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
বিশেষ করে শহরের জেলখানা মোড়ের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সেখানে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ও দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের সতর্কতা, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, আটক কিশোরদের কয়েকজনের পকেট থেকে গ্যাস লাইটার ও বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রী পাওয়া যাওয়াই কাউকে অপরাধী প্রমাণ করে না। তবে কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও আচরণে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। কৈশোরে অসতর্কতা, খারাপ সঙ্গ এবং পারিবারিক নজরদারির অভাব অনেক সময় বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ জন্য অভিভাবকদের সন্তানদের দৈনন্দিন চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও অভ্যাসের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সমস্যা ও পরিবর্তিত আচরণ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। শুধু শাসন নয়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পারিবারিক সচেতনতাও কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংবাদ সম্মেলনসংক্রান্ত একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই বার্তা পেয়ে কয়েকজন ফটোসাংবাদিক থানায় উপস্থিত হন। আটক কিশোরদের বিষয়ে জানতে চাইলে এবং ছবি তোলার চেষ্টা করলে কয়েকজন অভিভাবক সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা শালীনভাবে জানানোই প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচয় ও ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, গোপনীয়তা এবং শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়টিও সাংবাদিকদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালিয়ে আটক করা কিংবা অভিভাবকদের মুচলেকা নেওয়াই যথেষ্ট নয়। কোন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা হচ্ছে, কারা তাদের অপরাধে জড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কী কারণে তারা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—এসব বিষয় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
পুলিশকে আরও সতর্ক, দক্ষ ও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে জেলখানা মোড়ে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনসম্মত নজরদারি এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কেবল পোশাক, বয়স, আড্ডা কিংবা ব্যক্তিগত সামগ্রীর ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নির্দিষ্ট আচরণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।
কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব। পুলিশকে কঠোর হতে হবে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা দমনে, আর কিশোরদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে আইনসম্মত ও শিশুবান্ধব পদ্ধতি। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বগুড়ার জেলখানা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









