বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুলছাত্রীকে চার দিন পর চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার পৃথক দুটি বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতিমধ্যেই কিশোরীদের তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরী হলো— লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) ও বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তানিয়া ও সাদিয়া স্থানীয় ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এবং রেশমি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও যোগ দেয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লামা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির পর তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। বুধবার রাতে সিএমপির খুলশী থানাধীন ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের একটি বাসায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সেখানে বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিল।
কিশোরীদের দাবি অনুযায়ী তারা রেজিস্ট্রেশন কার্ড তুলতে বের হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য মিলেছে। ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা সর্বশেষ ক্লাসে উপস্থিত ছিল। সোমবার অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করার পর তারা নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারেন।
অন্যদিকে, রেশমি চলতি বছর ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে চকরিয়ার মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি শর্মা জানান, ওই কিশোরীরা তার বিদ্যালয়ে যায়নি। গত ১২ অক্টোবর রেশমির মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি খোঁজ নিতে এলে তারা নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারেন।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহা. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলশী থানা এলাকা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালীর ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়া এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। চার দিন পর তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের খবরে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









