দৈনিক ইনকিলাবের নওগাঁর আত্রাই প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিম পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার। ঢাকায় অবস্থান করা সত্ত্বেও তাঁকে একটি ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্রাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সাংবাদিক ফাহিমের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৬ এপ্রিল দৈনিক ইনকিলাবের আত্রাই প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিম ঢাকার সাভারে তাঁর ভাড়াবাসায় অবস্থান করছিলেন। অথচ ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে সশরীরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেন আত্রাই উপজেলার ২ নম্বর ভোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল। গত ১৪ অক্টোবর নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছাত্রজীবনে সাংবাদিক ফাহিম আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আত্রাই থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেলিমুজ্জামান চরম অনিয়ম ও অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে ফাহিমের অবস্থান ভোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে দেখানো হলেও বাস্তবে তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন। তাছাড়া মামলার অন্যতম সাক্ষী গ্রাম পুলিশ মোয়া আনোয়ার হোসেন জানান, তদন্তের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কেউ কথাই বলেননি। অন্য সাক্ষীদের মধ্যে দুজন হলফনামার মাধ্যমে মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে পরিষ্কার করেছেন এবং অপর এক সাক্ষী বিদেশে অবস্থান করছেন।
পরিবারের দাবি, ভোপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডল গত ১ সেপ্টেম্বর সরকারি মালামাল অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েন, যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় দৈনিক ইনকিলাবেও সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই ইউপি চেয়ারম্যান একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হন। এর আগেও চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফাহিম সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁর ওপর তীব্র আক্রোশ তৈরি হয়। তারই জের ধরে এই সাজানো ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ফাহিমের বাবা ওসমান আলী প্রামানিক, মা শেফালী বেগম, ভাই ফিরোজ প্রামানিক ও খালাতো ভাই নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মামলাটির নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, তদন্ত কর্মকর্তার অনিয়ম ও মিথ্যা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সাংবাদিক ফাহিমের নিঃশর্ত মুক্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









