মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন—এটাই ছিল বাবা-মায়ের আজীবন স্বপ্ন। বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে প্রকৌশলী হবেন। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী গার্গী চ্যাটার্জীও সেই স্বপ্নের পথেই হেঁটেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি ও এসএসসি—প্রতিটি পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। স্কুলের রোল নম্বরও সবসময় থাকত প্রথম পাঁচজনের মধ্যে। কিন্তু জীবনের পথচলা তাঁর জন্য সহজ হয়নি; কৈশোরেই বাবাকে হারিয়েছেন, অর্থাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে পড়াশোনা। এরপর চরম শারীরিক অসুস্থতা ও অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের মতো জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করে উচ্চশিক্ষা শেষ করলেও এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর ঢাকায় উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন গার্গী। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা দীপক কুমার চ্যাটার্জী মারা যান। স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করা বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে হিমশিম খান মা পূর্ণিমা চ্যাটার্জী। বাধ্য হয়ে স্বরূপকাঠির গ্রামের জমিও বিক্রি করতে হয় তাঁদের। পরে ঢাকায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে পিরোজপুরে ফিরে আসেন গার্গী এবং পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.১৭ পান।
প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদ বজায় রেখে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে এলএলবিতে ৩.৮৬ এবং এলএলএমে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেন গার্গী। এরপর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) মাস্টার্স ইন পিস, কনফ্লিক্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ও ঘরে তৈরি গয়নার ব্যবসা করে নিজের খরচ চালিয়েছেন।
জটিল রোগ ও হুইলচেয়ারে জীবন:
আইন বিষয়ে স্নাতকের শেষ বর্ষে পড়ার সময় গার্গীর শরীরে ধরা পড়ে ‘অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস’। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, যা মেরুদণ্ড ও বিভিন্ন সন্ধিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের ব্যথা বাড়তে থাকে এবং চলাফেরার সক্ষমতা কমতে থাকে। একপর্যায়ে হুইলচেয়ারই তাঁর চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির রিউমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু শাহীনের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপনসহ বিদেশে উন্নত সার্জারি ও পুনর্বাসন প্রয়োজন।
এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে গার্গীর পাশে ছায়ার মতো আছেন তাঁর জীবনসঙ্গী, বুয়েটপড়ুয়া যন্ত্রকৌশলী নিলয় ভৌমিক। স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নিজে হিমশিম খেলেও এবং ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার পরও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসার প্রস্তুতি ও সহায়তার আহ্বান:
উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মদন মোহন রেড্ডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পরিবার। রোবোটিক পদ্ধতিতে হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন, রোগ নির্ণয়, সার্জারি এবং পরবর্তী ছয় সপ্তাহের পুনর্বাসনসহ সর্বমোট প্রায় ৪০ লাখ টাকা প্রয়োজন। এর আগে চিকিৎসায় ৩৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। পরিবার ও সঞ্চয়ের সব পুঁজি শেষ হওয়ায় এখন বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন গার্গীর পরিবার।
চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন জানান, “গার্গী অত্যন্ত সাহসী একজন মেয়ে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে হলে তাঁর দেশের বাইরে সার্জারি করানো অত্যন্ত জরুরি।”
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
হিসাবধারী: গার্গী চ্যাটার্জী
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক, পাঁচলাইশ শাখা
হিসাব নম্বর: ১০১৫৭০۱۰১২৫৭৬
বিকাশ/নগদ: ০১৭৮৪১৮৮৭৬০ (নিলয়)


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









