ধর্মীয় রীতিনীতি ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জে মহাসমারোহে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে হবিগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশনে এ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের পূজায় দেবীরূপে পূজিত হয় ১০ বছরের কন্যাশিশু কৃত্তিকা চক্রবর্তী। পূজিত হওয়া ওই কুমারী দেবী চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার রাজেশ চক্রবর্তীর কন্যা।
পূজা শুরুর আগে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। এরপর হাতে ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা পরিয়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে কুমারী মায়ের পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও দেবীর স্তুতিতে রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীর এই বিশেষ দিনে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী কিশোরীকে দেবীরূপে পূজা করার এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। পূজা দেখতে মণ্ডপে ভিড় জমান হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ দর্শনার্থী।
এদিকে, কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ শহরজুড়ে ও মণ্ডপ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মাঠে দায়িত্ব পালন করেন র্যাব ও আনসার সদস্যরা। এ ছাড়া মণ্ডপ এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ জানান, “এই মিশনে টানা ১০৫ বছর ধরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা ও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই পূজা দেখতে হবিগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









