দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনে জমে উঠছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, ঝরনা, স্বচ্ছ জলধারা আর সবুজ চা-বাগানের টানে সিলেটে আসতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। তাঁদের বরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০ ভাগ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়লে সিলেটের পর্যটন খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
দুর্গাপূজার প্রাতিষ্ঠানিক ছুটি গত রবিবার থেকে শুরু হলেও সরকারি অফিস-আদালতে ছুটি শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আগামী রবিবার খুলবে অফিস-আদালত। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। তাঁদের বড় একটি অংশের পছন্দের গন্তব্য সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই সিলেটের জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, রাতারগুল ও লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন সিলেট নগরের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানও। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আজ মঙ্গলবার থেকে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় আরও বাড়বে। ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলেও আশা করছেন তাঁরা।
সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার হোটেল গোল্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক মিষ্টু দত্ত এদিনকে বলেন, পর্যটকদের বরণ করতে সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর হোটেলের প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। আগামী দিনগুলোতে বাকি কক্ষগুলোও বুকিং হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
সিলেট হোটেল মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল বলেন, ‘পর্যটকদের বরণে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটন খাতে ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি। এরই মধ্যে বেশির ভাগ হোটেলের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এবার সিলেটে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ এদিনকে বলেন, পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি জেলার অর্থনীতিও চাঙা হবে। দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সিলেটের পর্যটন খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা এদিনকে বলেন, পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাসেলুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









