যাত্রাবিরতির পর থেকেই চালকের চোখে ছিল ঘুম। বারবার সতর্ক করার পরও শোনেননি কথা—শেষ পর্যন্ত সেই অবহেলার মাশুল দিতে হলো ১৪টি তাজা প্রাণ দিয়ে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর আহতদের সহায়তায় এগিয়ে না এসে উল্টো মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু অসাধু মানুষের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী জানান, যাত্রাবিরতির পর থেকেই বাসটি বেশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছিল এবং চালককে স্পষ্টত ঘুম ঘুম চোখে দেখা যাচ্ছিল। যাত্রীরা বারবার তাঁকেই সতর্ক করেন এবং গাড়ি ধীরে চালানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু চালক কারও কথায় কান না দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সজোরে সংঘর্ষ ঘটে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার পরিবর্তে আশপাশের কিছু অসাধু লোক তাঁদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আহত যাত্রী ও তাঁদের স্বজনেরা। রক্তাক্ত ও অসহায় মানুষের মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ও চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে পরিদর্শনে যান নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর।
ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দিতে এবং আহতদের চিকিৎসার সার্বিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, "দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, একসঙ্গে এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় নিহতদের পরিবার ও এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









