ব্যবসার কাজে পণ্য কিনতে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কথা ছিল ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে নিজ এলাকায় ফিরবেন। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রা। নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ৫ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যবসায়ীরা হলেন— জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি গ্রামের জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি গ্রামের সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার সোহাগ শিকদার, একই এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী। নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাবিরতির পর থেকেই বাসের চালককে বেশ তন্দ্রাচ্ছন্ন মনে হচ্ছিল। ঝুঁকি বুঝতে পেরে যাত্রীরা চালককে বারবার সতর্ক করেন এবং গাড়ি ধীরে চালানোর অনুরোধ জানান। তবে চালক সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষ ঘটলে দুটি গাড়িরই সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
একই উপজেলার ব্যবসায়ী হওয়ায় নিহতদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও নিবিড় যোগাযোগ ছিল। একসাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে লাশ হয়ে ফেরার খবরে নিহতদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া গেছে। নাটোরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









