সৌরজগতের উৎপত্তি ও পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে মঙ্গলের একটি উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো অভিযানে নেমেছে জাপানের একটি মহাকাশযান।
মঙ্গলবার এটি মঙ্গলের উপগ্রহের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জাক্সা) সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, জাপানের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
রকেটটি মানববিহীন মহাকাশযান ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন (এমএমএক্স)’ নিয়ে রাতের অন্ধকার আকাশে পাড়ি জমায়।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর সরাসরি সম্প্রচারে জাক্সা জানায়, মহাকাশযানটি সফলভাবে এইচ-৩ রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
জাক্সার বিজ্ঞানী মারি আইদা বলেন, ‘আমি দিনটির স্বপ্ন দেখেছি। তাই আমি ভীষণ আনন্দিত। এই মুহূর্তে আমি সত্যিই স্বস্তি অনুভব করছি।’
জাক্সা জানায়, মহাকাশযানটি রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী এর সংকেত পাওয়া গেছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, মহাকাশযানটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
জাপানে তখন ভোরের আগের সময় হলেও হাজারো মানুষ সরাসরি সম্প্রচারটি দেখেন। তারা মহাকাশযানটির সাফল্য কামনা করে বিভিন্ন বার্তা পোস্ট করেন।
আগামী বছরের আগস্টের দিকে মহাকাশযানটির মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে এটি মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘুরবে।
ফোবোসের পৃষ্ঠে চলাচলকারী প্রথম যান হবে ফরাসি-জার্মান যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি রোভার। এর নাম ‘আইডেফিক্স’। কমিক চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সের কুকুরের ফরাসি নাম থেকে এই নাম নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদে অবতরণের উপযোগী স্থান নিশ্চিত করতে রোভারটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে।
এমএমএক্স ফোবোসে পৌঁছানোর পর সেখানে তিন বছর অবস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় মহাকাশযানটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করবে।
মঙ্গল অঞ্চলে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানটিকে এ ধরণের প্রথম অভিযান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মহাকাশ সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।
বিজ্ঞানে আমূল পরিবর্তন আনবে: বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই অভিযান ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গল অভিযান পরিচালনার পথ তৈরি করতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রশাসক নিকি ফক্স জাক্সার সরাসরি সম্প্রচারে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘এমএমএক্স থেকে পাওয়া নমুনা আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য মঙ্গল গ্রহব্যবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানে আমূল পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে, নাসা যখন মঙ্গলে প্রথম মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এর গুরুত্ব আরও বাড়বে।’
জাক্সার আশা, এই অভিযান থেকে জানা যাবে মঙ্গল ও এর দুটি উপগ্রহ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে। সৌরজগতের জন্মের ইতিহাস বুঝতে এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
উপগ্রহ দুটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে একটি তত্ত্ব হলো ‘বৃহৎ সংঘর্ষ’ বা ‘জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট’ তত্ত্ব।
এ তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি মহাজাগতিক বস্তু মঙ্গলে আঘাত হানার পর উপগ্রহ দু’টি সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, ‘ক্যাপচার’ বা মহাকর্ষের টানে আটকে পড়ার তত্ত্ব অনুযায়ী, উপগ্রহ দু’টি মূলত গ্রহাণু।
মঙ্গলের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে এগুলো এর কক্ষপথে আটকে পড়ে।
কোন তত্ত্বটি সঠিক, তা নির্ধারণ করা গেলে পাথুরে গ্রহগুলোতে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জাক্সা।
সূর্যের সবচেয়ে কাছের চারটি পাথুরে গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









