কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন নিয়ে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন মো. হাফিজ নামের এক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র পুনঃযাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে মো. হাফিজ এসব গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের তারা মিয়া ও মৃত কদরের নেছার ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে হাফিজ দাবি করেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর আইনগত ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা রয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) মামলা ও খতিয়ানের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের বাধার মুখে পড়ছেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় হাছমত কবির, কবির হোসেন ও কামাল হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে পাওনা দাবি না ছাড়তে ভয়ভীতি এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ-সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েও একাধিকবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় শুনানিতে কোনোক্রমে উপস্থিত হতে পারলেও বর্তমানে তিনি ও তাঁর পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হাফিজের দাবি, তাঁর মা জীবিত থাকাকালীন মানসিকভাবে অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় ছিলেন। সেই সুযোগে ভূয়া ও জাল দলিল তৈরি করে জালিয়াত চক্রটি সরকারি ক্ষতিপূরণের মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দলিল, ওয়ারিশ সনদ, খতিয়ান এবং পূর্বে ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের যাবতীয় নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জোরালো দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
উত্তাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনা;
এলএ মামলা ও ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত নথিপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করা;
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রকৃত পাওনাদারকে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান; এবং জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্ভয়ে শুনানিতে উপস্থিত হয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে আইনানুগ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী হাফিজ।
তবে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সাথে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









