রমজান মাস এলেই ব্যাস্ততা বহুগুণে বেড়ে যায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়ার মুড়িপল্লীতে। এ সকল গ্রামের শতাধিক পরিবার যুক্ত মুড়ি ভাজা এবং তা বিক্রির কাজে।
যুগ যুগ ধরে বংশ পরস্পরায় তারা এ কাজ করে ঐতিহ্য ধরে রাখছেন।দপদপিয়া ইউনিয়নের ২০ টি গ্রাম মুড়িপল্লী নামে পরিচিত। এখানের কারিগররা মোটা চাল থেকে দেশীয় এনালগ পদ্ধতিতে মাটির চুলায় মুড়ি ভাজার কাজ করেন। স্থানীয় চাহিদা পুরন করে এখানের মুড়ি যাচ্ছে বিদেশেও। বছর জুড়েই চলে এখানে মু্রিভাজা ও বিক্রির কাজ। তবে রমজান মাসে বাড়তি মুড়ির চাহিদা মেটাতে ব্যাস্ততা বাড়ে মুড়ি তৈরি কারিগরদের কাজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে - বরিশাল পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের রাজাখলি, দপদপিয়া, তিমির কাঠি, ভরতকাঠি, গোয়াল কাঠি, চরাদি, বাখরকাঠি, রাবনাহাট, জুরকাঠি, এবং কুমাখালি গ্রাম। অন্য সব পরিচয় হারিয়ে এ গ্রামগুলো বর্তমানে মুড়িপল্লী নামে পরিচিত। পরিবারের সকলেই মুড়ি ভাজা নিয়ে ব্যাস্ত। মাটির হাঁড়ি পাতিলের টুংটাং শব্দে মুখরিত চারদিক। কেউ চালে লবণ মিশ্রিত পানি মিশিয়ে ভাঁজছে, কেউ সেই ভাজা চাল গরম বালুতে শৈল্পিক হাতে মুড়ি বানাচ্ছে আবার সেই মুড়ি বস্তায় ভরছেন। উনুনের জ্বালের কাছে থাকতে হয় বলে দুইজন অথবা চারজন শ্রমিক পালাক্রমে বিশ্রাম নিয়ে অবিরাম মুড়ি ভেজে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা বিশ্রাম নিলেও মু্ড়ি ভাজার চুলোর নেই কোনো বিশ্রাম। মুড়ি ভাজার কর্মযজ্ঞের উৎসবে জ্বলে ওঠে ৩শ ঘরের ১ হাজার ২০০ টি মাটির চুলার আগুন। তৈরি হয় সুস্বাদু মোটা চালের মুড়ি। প্রতিদিন গড়ে তৈরি হয় ২ শ মণ মুড়ি। যাহা পাইকার দের হাত বদলে দেশের বিভিন্ন বাজারে চলেযায়।
শ্রমিক দিপালী রসনী জানান - প্রতিদিন তিনি ৫০/৫৫ কেজি চালের মুড়ি ভাজতে পারেন। তা থেকে ৪২/৪৫ কেজি মুড়ি পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি বস্তায় তার আয় হয় ৪০০টাকা। প্রতি কেজি ৭৫ টাকা পাইকারি বিক্রি হয় খুচরা বিক্রেতারা ১২০ টাকায় বিক্রি করেন।
জানাগেছে ১৯৪৮ সালে জুরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আমজেদ মিয়া নিজহাতে মুড়ি ভেজে বিক্রি করতেন। আশির দশকে আব্দুল হক নামের এক জন শিক্ষক বিভিন্ন এলাকায় পাইকার দের মুড়ি ক্রয় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সেই থেকে শুরু সামনে এগিয়ে আলা। বানিজ্যিক ভাবে মুড়ি ভাজার সাথে তিন যুগ ধরে জড়িত এখানের ৪০ টি ঘরের সবাই।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হাবিব জানান, মুড়িপল্লী গুলো বানিজ্যিকীকরন করে আরো অধিক উৎপাদন এবং এ পেশায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন বলে আমরা মনে করি। সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিষয়ে নজরে এনে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









