ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতীপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে নির্যাতন, তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগানোর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি আন্নি খাতুন (৪৫) ও তার ছেলে অনি হোসেন (২৬)। আন্নি করাতীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, মামলা হওয়ার পর সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম, গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা-পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আন্নি খাতুনকে এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকা থেকে অনি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে ছিলেন ওই নারী। এ সময় পাশের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ তাঁর বাড়িতে গিয়ে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাকে শাসিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তারা ওই নারীর মাথার চুল কেটে দেন এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগান। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই পাঁচজনকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









