বার্সেলোনায় কাটানো সময়কে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে সতীর্থদের সঙ্গে শুধু শিরোপাই জেতেননি, প্রতিদিনের অনুশীলন ও মাঠের খেলাও উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার সোনালি সময়ের স্মৃতিচারণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, বার্সেলোনার হয়ে তারা সবকিছু জেতার সৌভাগ্য পেয়েছিলেন। তবে সাফল্যের পাশাপাশি যেভাবে তারা খেলেছেন এবং প্রতিদিনের অনুশীলন উপভোগ করেছেন, সেটিও তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে আছে।
মেসির ভাষায়, ‘‘আমরা সবকিছু জেতার সৌভাগ্য পেয়েছিলাম। শুধু জয়ই নয়, যেভাবে খেলতাম, জিততাম এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো উদ্যাপন করতাম, সেটিও ছিল উপভোগ্য। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিদিনের কাজ ও অনুশীলন আমরা দারুণ উপভোগ করতাম।’’
বার্সেলোনায় জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও কার্লেস পুয়োলের মতো সতীর্থদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন মেসি।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয় তার। দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলায় ক্লাবটির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ১০টি লা লিগাসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন।
#বার্সেলোনা মেসির জীবনের অংশ
বার্সেলোনা ক্লাব ও শহরটির সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথাও জানিয়েছেন মেসি। তার মতে, অল্প কথায় এই সম্পর্কের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা কঠিন। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় সেখানে কাটানোর পাশাপাশি তার তিন সন্তানের জন্মও হয়েছে বার্সেলোনায়।
মেসি বলেন, ক্লাব ও শহরটিতে তিনি জীবনের অনেক ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছেন। এ কারণে বার্সেলোনার প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসা সব সময়ই থাকবে।

বিশ্বকাপ জয় ছিল স্বপ্নপূরণ
ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়কে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখেন মেসি। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে করা গোলগুলোও তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ম্যাচটির তাৎপর্য, সময় এবং পরিস্থিতির কারণে ওই গোলগুলোকে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর মধ্যে রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর কথাও স্মরণ করেছেন এই তারকা।
বাবার পরামর্শ আজও মনে রেখেছেন
সাক্ষাৎকারে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথাও স্মরণ করেছেন লিওনেল মেসি। গত আগস্টে মারা যান তার বাবা। ফুটবল নিয়ে বাবার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হতো বলে জানিয়েছেন তিনি। অনুশীলন কিংবা ম্যাচ শেষেও নিজেদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতেন তাঁরা।
মেসির কাছে বাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল, চেষ্টা কখনো থামানো যাবে না। ভালো হোক বা খারাপ—মাঠে বল পেলে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ সামনে সব সময় আরেকটি সুযোগ থাকে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নিজেকে কীভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চান, এমন প্রশ্নের উত্তরে মেসি বলেছেন, একজন ভালো ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিত হতে চান তিনি—যিনি নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণে সব সময় চেষ্টা করেছেন।
গত ২৩ অক্টোবর স্পেনের ওভিয়েদোতে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন মেসি। খেলাধুলায় অসাধারণ অবদান, বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তাঁর দাতব্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









