ঝালকাঠি পৌরসভাকে একসময় স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে জনবসতির ভূমিকায় ছিলো শহরকেন্দ্রীক ছোট- বড় ২২ টি খাল। এই খালগুলো থেকে নিয়মিত যাতায়াত করতো মাঝারি ধরনের নৌযান। কালের বিবর্তনে একে একে খালগুলোকে ভূমি খেকোরা অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করেছে বাড়ির বারান্দা ও দোকান সহ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। ময়লা আবর্জনা ফেলায় ভরে যাওয়ায় পানি চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। অনেকটা খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়েছে।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কালজয়ী খাল খনন উদ্যোগ পূনরায় সদ্য শপথ নেয়া প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বাস্তবায়নের ঘোষণায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে জনমনে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশজুড়ে ২ হাজার মাইলের বেশি যে খাল খনন করেছিলো তার মধ্যে ঝালকাঠির ঐতিহাসিক ধানসিঁড়ি নদীও অন্যতম। কৃষক দের আশীর্বাদ এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে এ কর্মসূচি ব্যাপক আশাজাগানিয়া করেছে দেশবাসীকে।
সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত এবং গাবখান চ্যানেলের পূর্ব পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি পৌরসভা। শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত সরকারি বাসন্ডা খালটিতে শাখা খাল পশ্চিম চাঁদ কাঠি খাদ্য গুদাম সংলগ্ন হয়ে উপজেলা পরিষদের পেছন পর্যন্ত গোডাউন খাল, কাঠপট্টি ট্রলার ঘাট থেকে উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খাল, মাছ বাজার, শীতলা খোলা, ফায়ার সার্ভিসের পিছন হয়ে জেলখানার সামনের খাল, পূর্ব চাঁদ কাঠি চৌমাথা হয়ে নতুন কলেজ রোডে বিদ্যুৎ অফিসের পিছন দিয়ে জেলেপাড়া খাল গুলো অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে টানা কিছু সময় বৃষ্টি হলেই শহরে দেখা যায় জলাবদ্ধতা। অন্য দিকে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনেও খালের অস্তিত্ব হারিয়ে স্মৃতি হতে চলছে। এসময় সভা সেমিনারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কর্মসূচী পালন করলেও বাস্তবায়নে দেখা যায় না।
ভুক্তভোগীরা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট সমস্যা নিরসনে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন ব্যাবসয়ী এবং ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। গেলো দুই যুগে একটু একটু করে দখল হয়েগেছে ঝালকাঠি শহরের খালগুলো। এতে শহরের পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় পরিবেশের ওপর পড়েছে বিরূপ প্রভাব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রথম শ্রেনির পৌরসভা। ২২ টি প্রবাহমান খাল থেকে বর্তমানে শহরের বুকে কোনোরকম ৪/৫ টি খাল অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।
এবিষয়ে ঝালকাঠি পৌর প্রসাশক মো. কাউসার হোসেন জানান, খাল গুলো দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ ফেরাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধান ৭ টি খাল খননের কাজ চলমান ছিলো কিন্তু মৌসুমের পরিবর্তনের কারনে স্থগিত ছিলো যাহা পূনরায় চালু করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









