চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে নেমে আসায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এ শীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষেরা।
ভ্যান চালক জাহিদুল বলেন, দুইদিন থেকে অনেক বেশি শীত। শীতের কারণে বাইরে বের হওয়ায় যাচ্ছে না। লোকজন সেভাবে বাইরে বের হচ্ছে না, আগের মতো ভাড়াও হচ্ছে না। শীতে কষ্ট হলেও সংসারের জন্য গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের জড়ো হতে দেখা গেছে। আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন। অনেকের বলছেন, প্রচন্ড শীতের কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষক ও দিনমজুররা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে শীতের মধ্যে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়।
এদিকে, শীতের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
শীতের কষ্টে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।
শিক্ষার্থী রিমন বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন শীতের কারণে সেগুলোতে ওঠা যায় না। হেঁটেই যেতে হচ্ছে। হাত-পা খুব ঠান্ডা হয়ে যায়, তবে হাঁটলে শরীর কিছুটা গরম হয়।
এ ঠান্ডায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এছাড়াও জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









