মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৭৩৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৩৬ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে বিভাগের ছয় জেলায় মোট ২ হাজার ৬৭৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচালিত হয় ৮০০টি মোবাইল কোর্ট।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ মিটার। এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭ কেজি ইলিশ।
জব্দ করা মাছ নিলামে বিক্রি করে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নদ-নদী ও বিভিন্ন মাছের বাজারে নজরদারিও জোরদার করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২২ দিনে বিভাগের বিভিন্ন মাছ অবতরণ কেন্দ্রে ৬২৩ বার, মাছঘাটে ৩ হাজার ২১৩ বার, আড়তে ৬ হাজার ৫০৫ বার এবং বাজারে ৪ হাজার ৩৫৩ বার পরিদর্শন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় নদ-নদীতে নজরদারি, অবৈধ জাল উদ্ধার এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ছিল অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ, মামলা ও কারাদণ্ডের পরিসংখ্যান নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেছে।
তবে মা ইলিশ সংরক্ষণের সুফল পেতে শুধু নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। বছরজুড়ে অবৈধ জালের ব্যবহার ও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









