শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। আর এই আবহেই পাবনার চাটমোহরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। গাছ পরিচর্যা, চাঁছা-ছোলা ও নলি বসানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। কোমরে দড়ি বেঁধে হাতে ধারালো দা নিয়ে গাছের মগডালে চড়ে নিপুণ হাতে রস আহরণের উপযোগী করে তুলছেন তারা। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে রস সংগ্রহের মূল মৌসুম।
উপজেলার চাটমোহর, মধুরাপুর, ভদরা, হান্ডিয়াল, বাঘলবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গাছিরা অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়ে গাছ প্রস্তুতের কাজ করছেন। সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে এই রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির প্রক্রিয়া। তবে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক খেজুরগাছ কেটে ফেলায় আগের তুলনায় গাছের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাছিরা জানান, এ মৌসুমে একেকজন ২০ থেকে ৩০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে কিছু নিজস্ব গাছ থাকলেও বেশিরভাগ গাছই অন্যের কাছ থেকে চুক্তিতে (ঠিকা) নিতে হয়। প্রতিটি গাছের জন্য মালিকপক্ষকে দিতে হয় সাত কেজি লালি গুড় অথবা এক হাজার টাকা। বিকেল ৩টার দিকে গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয় এবং পরদিন কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে তা নামানো হয়। পরে সেই রস জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু গুড় ও পাটালি তৈরি করা হয়, যা বর্তমানে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। শীতের মৌসুমে এই গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা-পায়েসের কদর গ্রামবাংলায় চিরন্তন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, শীত মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড় বেশ সমাদৃত এবং এর মাধ্যমে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। খেজুরগাছের জন্য অতিরিক্ত কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। তাই কৃষকদের বাড়ির আশপাশে, জমির আইলে ও সড়কের পাশে খেজুরগাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিত্যক্ত জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাগান গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









