যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় তা গোপন রাখতে পরিকল্পনা করে ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহতরা হলেন আলেক নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় তাদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে নেমে গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেসমিন ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন।
পুলিশের দাবি, মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা। এ সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও মাঠে কাজ করছিলেন। মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেসমিন ও মোস্তফা ওই দম্পতিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানায়, পরে কলমিশাক তোলার কথা বলে কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান তারা। সেখানে মোস্তফা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন। অন্যদিকে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে মাজেদার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে দুজনের মরদেহ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলা হয়েছিল। তদন্তের একপর্যায়ে সেটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার জেসমিন কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী। মোস্তফা কামাল একই গ্রামের মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









