সমাজ ও পরিবারের অবহেলা পেছনে ফেলে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে জীবন গড়ার চেষ্টা করছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের হিজড়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। সরকারের মানবিক উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও এখন তাঁদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক। নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর রক্ষায় আবাসন ঘিরে একটি স্থায়ী সীমানাপ্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক জীবনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হতে আশ্রয়ণ প্রকল্পেই অনেকে গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট খামার। কেউ পালন করছেন গরু-ছাগল, কেউ হাঁস-মুরগি ও কবুতর। এসব গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি তাঁদের আয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু আবাসনটি উন্মুক্ত থাকায় প্রায়ই রাতে চুরির আশঙ্কায় থাকতে হয় তাঁদের। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি রক্ষার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা আলো গুরু (গুরুমা) বলেন, ‘সরকার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে, আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু চারপাশ খোলা থাকায় রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। কষ্ট করে কেনা জিনিসপত্র আর পশুপাখি চুরি হয়ে যাচ্ছে। একটা বাউন্ডারি ওয়াল হলে আমরা নিরাপদে থাকতে পারতাম।’
মেঘলা হিজড়া বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা না করে গবাদিপশু আর হাঁস-মুরগি পালন করে খেতে চাই। কিন্তু প্রাচীর না থাকায় এগুলো ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গরু-ছাগল বাইরে চলে যায়, রাতে চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে পাহারা দিতে হয়।’
গৌরী হিজড়া বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে এখানে একটি বাউন্ডারি ওয়াল খুব জরুরি। খোলা জায়গায় রাতের বেলা নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চরম ঝুঁকিতে থাকি।’
রাশি হিজড়া বলেন, ‘আমরা সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার জন্য লড়াই করছি। আমাদের এই ছোট ছোট খামারগুলোই জীবিকার অবলম্বন। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমাদের স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিন।’
ফুল হিজড়া বলেন, ‘একটি বাউন্ডারি ওয়াল হলে ভেতরের পরিবেশটাও সুন্দর ও নিরাপদ হতো। অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের যাতায়াত বন্ধ হতো। আমরাও শান্তিতে থাকতে পারতাম।’
স্থানীয়দের মতে, হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের স্বাবলম্বী করে তুলতে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের যে সমস্যা রয়েছে, তাঁরা আমাদের সঙ্গে এসে কথা বলুক। আমরা বিষয়টি দেখব।’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে আবাসন এলাকায় একটি স্থায়ী সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে তাঁদের গড়ে তোলা ছোট ছোট খামার ও জীবিকার অবলম্বন রক্ষায় প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









