পটুয়াখালীর দুমকিতে কাবিখা ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে অস্তিত্বহীন ও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করছে দুদক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুদকের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব অনিয়মের তথ্য পায়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের গাড়ি ধোয়ার র্যাম্পের সামনে মাটি ভরাট না করে নামমাত্র ইট ফেলে বরাদ্দের ২ লাখ ৩৭৪ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওর বাসভবনের ফুলবাগান ও উপজেলা পরিষদের মাঠে মাটি ভরাটের নামে প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে এসব কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে নলকূপ স্থাপন ও রাস্তা মেরামতের প্রকল্পে কোনো কাজ করা হয়নি। লেবুখালী ইউনিয়নে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগের কাজ।
অন্যদিকে, পাঁচটি নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তাপস বিশ্বাস বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট পিআইও এবং প্রকল্প সভাপতিদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে দ্রুত প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। যেহেতু দুদক তদন্তে নেমেছে, সেহেতু এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









