দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারী মূল্য নির্ধারণে সাধারণ মানুষ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিন্ডিকেটের মরণকামড় অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার পাইকারি বিক্রেতারা একটি শক্তিশালী চক্র তৈরি করে কৃত্রিম সংকট ও ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ ও আটপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজার এখন অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করছে তারা। ফলে খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। খুচরা বাজারেও অস্থিরতা পাইকারি সিন্ডিকেটের সুযোগ নিয়ে অনেক খুচরা বিক্রেতাও অসাধু ব্যবসায় মেতে উঠেছেন।
নেত্রকোনা বাজার মনিটরিং সেল এর নির্ধারিত ১৫৫০ টাকায় খুচরা বিক্রি করার নির্দেশও মানছে না।তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্যে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, "গ্যাসের দাম কত হবে সেটা সরকারি দপ্তরে নয়, বরং নির্ধারিত হয় এই অসাধু ব্যবসায়ীদের টেবিলে।" প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নেত্রকোনা জেলায় এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বা বাজার মনিটরিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এই চরম অনিয়ম ও ভোক্তা শোষণের লাগাম টেনে ধরার কি কেউ নেই?
প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা অসাধু ব্যবসায়ীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ভোক্তাদের দাবি অনতিবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করা। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই গ্যাস সংকটের সমাধান এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









