রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রের পাশাপাশি মারা গেছে একটি গরু ও তিনটি ছাগল। সব হারিয়ে পোড়া টিন দিয়ে তৈরি ছোট চালাঘরে রাত কাটিয়েছেন অশোক চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী চানু বালা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস মাঠের পাড় এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে অশোক চন্দ্র রায়ের তিনটি এবং তার ছোট ভাই নরেশ চন্দ্র রায়ের একটি ঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে জমি কেনার জন্য জমানো তিন লাখ টাকা ও প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ মোট আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরের জায়গায় পড়ে আছে পোড়া টিন, বাঁশ ও কাঠের টুকরো। স্বামীর পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন চানু বালা। তিনি বলেন, ‘এতগুলা ঋণ ক্যামন করি পরিশোধ করিমো? মোর বেটির এই স্বর্ণ ক্যামন করি দিম? মোর সব শেষ হয়া গেল।’
৫০ বছর বয়সী অশোক চন্দ্র রায় দিনমজুরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাগানে গাছের ডাল কাটা ও কীটনাশক ছিটানোর কাজ করেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেকে বিয়ে দেওয়া এবং বসতভিটা বাড়ানোর জন্য কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন জমি কেনার আশায়। আগুনে সেই সঞ্চয়ও পুড়ে গেছে।
অশোকের মেয়ের বিয়েতে ধারদেনা করে প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছিল। মেয়ের সন্তান হওয়ার সময় গয়নাগুলো মায়ের কাছে রেখে যান তিনি। আগুনে সেগুলোও পুড়ে গেছে।
প্রতিবেশী গোলাপী রানী প্রথম আগুন দেখতে পান। তিনি জানান, সন্ধ্যায় পূজাপাঠ শেষে বাইরে বেরিয়ে ঘরের টিনের চাল দিয়ে আগুনের শিখা বের হতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের ধারণা, বাড়ির পূজার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার আরিফুল ইসলাম বলেন, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান। আগামী সপ্তাহের মধ্যে টিন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









