রাষ্ট্রপতির আগমন ও ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের দেয়ালে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। বিষয়টি জানার পর মুছে ফেলা গ্রাফিতি পুনরায় আঁকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের নায়েমের গলিসংলগ্ন প্রাচীরসহ মিরপুর রোডের সামনের অংশে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এতে আন্দোলনের স্মৃতি, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে আঁকা বিভিন্ন চিত্র আড়ালে চলে গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৎকালীন গ্রাফিতি অঙ্কনের নেতৃত্ব দেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত। তিনি বলেন, দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার মাধ্যমে কলেজ প্রশাসন অগণতান্ত্রিক ও জুলাইয়ের স্মৃতিবিরোধী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে কোনোভাবেই জুলাইয়ের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্যাম্পাসে আগমন অবশ্যই আনন্দের বিষয়। কিন্তু পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ক্যাম্পাসের প্রকৃত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হলে অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের দিকেও প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মিল্লাদ হোসেন বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে আসবেন। এ উপলক্ষে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে পুরো ক্যাম্পাসের দেয়ালে নতুন করে রং করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো নতুন করে আঁকা যেতে পারে। অন্যান্য ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন চাইলে সেগুলো পুনরায় অঙ্কন করতে পারে।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আগে জানতে পারলে গ্রাফিতি মুছে ফেলতে নিষেধ করতেন বলেও জানান তিনি।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, গ্রাফিতির বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়ে থাকলে তা পুনরায় আঁকতে হবে। আর যেসব অংশ এখনো মুছে ফেলা হয়নি, সেগুলো অক্ষত রেখে কীভাবে সংস্কার করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে। দেয়াল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তা গ্রাফিতি বাদ দিয়ে নয়।
এদিকে, দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা কলেজ শাখা। একই সঙ্গে মুছে ফেলা গ্রাফিতি দ্রুত পুনরুদ্ধারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং বাংলাদেশের বর্তমান ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









