সুবহা ছোট্ট মেয়ে। সে মাদ্রাসায় পড়ে। সকালে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে মাদ্রাসায় যায়। সঙ্গে থাকে খাতা, পেন্সিল আর পড়ার বই। বান্ধবীদের সঙ্গে বসে পড়া মুখস্থ করে। উস্তাদজি পড়া ধরলে সুবহা মন দিয়ে শোনে। ছুটির সময় বান্ধবীদের সঙ্গে একটু খেলাধুলাও করে।
মাদ্রাসা ছুটি হলে সুবহা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে। বাড়িতে এসে ব্যাগটা রেখে হাত-মুখ ধুয়ে ভাত খায়। মা তখন কাজে থাকেন। তাই মায়ের ফেরার আগ পর্যন্ত সুবহা কখনো পুতুল নিয়ে খেলে, কখনো খাতায় ছবি আঁকে।
একদিন ভাত খেয়ে সুবহা উঠানের পাশে বসে কাঠি দিয়ে মাটিতে দাগ কাটছিল। হঠাৎ বাঁশঝাড়ের দিক থেকে আওয়াজ এল,
ম্যাঁও... ম্যাঁও...
সুবহা উঠে দাঁড়াল। শব্দটা আবার এল।
সে বাঁশঝাড়ের কাছে গিয়ে দেখল, শুকনো পাতার ওপর ছোট্ট একটা বিড়ালছানা বসে আছে। গায়ে কাদা লেগে আছে।
সুবহা কাছে গিয়ে বলল, তুই এখানে একা?
বিড়ালছানাটি ডাকল, ম্যাঁও।
সুবহা হাত বাড়িয়ে দিল। বিড়ালছানাটি একটু পিছিয়ে গেল। সে আর এগোল না। কিছুক্ষণ পর বিড়ালছানাটি নিজেই কাছে এসে তার আঙুলে নাক ঠেকাল।
সুবহা তাকে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এল।
একটু ভাতের সঙ্গে পানি মিশিয়ে সামনে দিতেই বিড়ালছানাটি খেতে শুরু করল। পুরো বাটি খালি করে ফেলল।
সুবহা বলল, তোর তো অনেক ক্ষুধা ছিল!
বিকেলে মা বাড়ি ফিরলে সুবহা বলল, মা, আমি একটা বিড়ালছানা পেয়েছি। ওকে রেখে দিই?
মা বিড়ালছানাটার দিকে তাকিয়ে বললেন, রেখে দে।
সুবহা খুশি হয়ে পুরোনো একটা কাপড় এনে বারান্দার কোণে বিছিয়ে দিল। বিড়ালছানাটিকে সেখানে শুইয়ে বলল, এখানে থাকবি।
তার নাম দিল টুকু।
এরপর থেকে মাদ্রাসা থেকে ফিরেই সুবহা টুকুকে খুঁজত। টুকুও তাকে দেখলেই দৌড়ে আসত। সুবহা বল নিয়ে খেললে টুকু পেছনে পেছনে ছুটত। সুবহা পড়তে বসলে কখনো তার পাশে, কখনো খাতার ওপর গিয়ে বসত।
একদিন মাদ্রাসা থেকে ফিরে সুবহা টুকুকে ডাকল।
টুকু!
কোনো সাড়া নেই।
বারান্দায় নেই। রান্নাঘরে নেই। খাটের নিচেও নেই।
সুবহা উঠানে খুঁজল। পাশের বাড়ির কাছেও গেল। টুকুকে কোথাও পাওয়া গেল না।
হঠাৎ তার বাঁশঝাড়ের কথা মনে পড়ল।
সুবহা দৌড়ে সেখানে গেল।
কিছুদূর যেতেই শুনতে পেল, ম্যাঁও...
ঝোপের পাশে গিয়ে দেখল, টুকু বসে আছে। তার পাশে একটা বড় বিড়াল। সুবহাকে দেখে বড় বিড়ালটি বাঁশঝাড়ের ভেতর চলে গেল।
সুবহা টুকুকে কোলে তুলে বলল, তুই এখানে এসেছিস! আমি তোকে কত খুঁজেছি।
টুকু চুপ করে তার কোলে বসে রইল।
সুবহা বুঝল, বড় বিড়ালটির ডাক শুনে টুকু তার পেছন পেছন এখানে চলে এসেছিল।
টুকুকে কোলে নিয়ে সুবহা বাড়ি ফিরল।
রাতে পড়া শেষ করে সে টুকুর পাশে বসে রইল। টুকু তার পায়ের কাছে গোল হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
সুবহা আস্তে করে বলল, কাল মাদ্রাসা থেকে এসেই তোকে খুঁজব। তবে আর পালাবি না।
টুকু ঘুমের মধ্যেই একটু নড়ল।
সুবহা হেসে বলল, এই তো, শুনেছিস!


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









