‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করা হয়েছে। অথচ সঠিক তদারকি, নিয়মিত মনিটরিং ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অনেক অভিভাবকের আস্থা কমছে। ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক অভিভাবকও বাড়তি খরচ করে সন্তানদের বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের মতো পড়াশোনার পরিবেশ নেই। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচর্যা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিপরীতে অনেক সরকারি বিদ্যালয়ে এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বাড়তি ব্যয় বহন করেও সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকার যেখানে বিনা মূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করছে, সেখানে অভিভাবকদের একটি অংশ কেন সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন? সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ কতটা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন, শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়ন, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রাথমিক স্তরই একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। এ পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা না গেলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পাঠদানের মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষকদের পেশাগত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









