যশোরের মণিরামপুরের খাটুরা বাওড় দখলে রাখার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বাওড়ের মৎস্যজীবীরা। এ সময় তারা বাওড়ে মাছ আহরণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলতাপ হোসেনের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘মাছ ধরার অনুমতি দাও, নইলে আমাদের বিষ দাও’ এবং ‘জাল যার, জল তার’।
সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, ইজারার মাধ্যমে ১০১ সদস্যের খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে বাওড়টি পরিচালনা করে আসছিল। ৫ আগস্টের পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বাওড়টি দখলের চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত এপ্রিল থেকে তিনি লোকজন নিয়ে পুরো বাওড় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। সমিতির সদস্যরা মাছ ধরতে বাওড়ে নামতে গেলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের হামলা, মামলা ও হুমকি দিচ্ছেন।
তারা বলেন, বাওড়ে মাছ আহরণ করেই সমিতির সদস্যরা জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন মাছ ধরতে না পারায় সদস্য ও তাদের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় চলতি মৌসুমে বাওড়ে মাছ আহরণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলতাপ হোসেন বলেন, আমরা ১০১ জন সদস্য ইজারার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে খাটুরা বাওড়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু বাওড়টি দখলে নেওয়ায় আমরা মাছ ধরতে পারছি না। আমাদের পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে। আমরা কারও সঙ্গে বিরোধ চাই না। প্রশাসনের কাছে দাবি, তদন্ত করে বাওড়টি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাছ আহরণের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মমতাজ বেগমের কাছে স্মারকলিপি দেন। মমতাজ বেগম বলেন, খাটুরা বাওড় নিয়ে মৎস্যজীবীদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









