রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

চলন বিলের শুঁটকি যাচ্ছে ভারতে

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

চলন বিলের শুঁটকি যাচ্ছে ভারতে

তাড়াশ-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে মহিষলুটি এলাকা। এই পথ অতিক্রমের সময় শুঁটকির তীব্র ঘ্রাণ উপেক্ষা করা কঠিন। চলন বিল অধ্যুষিত তাড়াশ থানার মহিষলুটি বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে একমাত্র শুঁটকি পল্লী। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলা পেরিয়ে এবার রফতানি হচ্ছে ভারতেও।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুটি বড় চাতালে মাছ কাটা-বাছাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন শ্রমিকরা। বাঁশের মাচায় সারি সারি করে শুকানো হচ্ছে আধা-শুকনো চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং ও কৈসহ নানা প্রজাতির মাছ। সূর্যের তাপে ধীরে ধীরে শুকিয়ে ওঠে এসব মাছ, তৈরি হয় দেশি স্বাদের শুঁটকি।

শুঁটকি পল্লীর মালিক রাসেল শেখ জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় এবার শুঁটকির চাহিদা ও মাছের সরবরাহ দুটোই বেশি। চলন বিলে এ বছর ব্যাপক মাছ উৎপাদন হয়েছে। প্রায় প্রতিটি জালেই ধরা পড়ছে প্রচুর মাছ। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে মাছ ধরছেন।
পল্লীর নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ২০০ টাকা মজুরিতে সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কাজ করেন। মাছ কাটা, ধোয়া, বাছাই ও শুকানোর পুরো প্রক্রিয়ায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় শুঁটকি উল্টে-পাল্টে সমানভাবে শুকানো নিশ্চিত করেন। কেউ কেউ বাড়তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চাতালের অন্যান্য কাজও করেন।
একজন শ্রমিক জানান, সব ধরনের মাছের শুঁটকি পাওয়া গেলেও পুঁটি মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মাছভেদে প্রতি কেজি শুঁটকির দাম ১৬০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। এখানে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না, ফলে স্বাদ ও মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

মহিষলুটি শুঁটকি পল্লীতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মণ শুঁটকি বিক্রি হয়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, দিনাজপুর, কক্সবাজার, রাজশাহী ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এখানে এসে শুঁটকি সংগ্রহ করেন। চলতি মৌসুমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও যাচ্ছে এই পল্লীর শুঁটকি।

পাইকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করেন, একটি আধুনিক মাছ সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা গেলে বর্ষাকালে মাছ সংরক্ষণ করে শীতের শুরুতে আরও বেশি শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হতো। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। চলন বিলে মাছের উৎপাদন বাড়ায় শুঁটকির চাতালগুলো এবার জমজমাট।
একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে চলন বিলের শুঁটকি জেলাজুড়ে ও দেশের সীমানা পেরিয়ে নতুন বাজার দখল করছে।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.