রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

দুই কিডনি বিকল তরুণ বাবার আকুতি- ‘শিশু সন্তানের জন্য বাঁচতে চাই’

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

দুই কিডনি বিকল তরুণ বাবার আকুতি- ‘শিশু সন্তানের জন্য বাঁচতে চাই’

বয়স সবে মাত্র ২৬। জীবনের এই সময়টায় যেখানে একজন তরুণ ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে, সেখানে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশ আনসারীর দিন কাটছে ভাড়া বাসার বিছানায় আর ডায়ালিস মেশিনের শব্দে। কোলে নেওয়ার কথা ছিল তার ১২ মাসের শিশু সন্তান জোহানকে। কিন্তু আজ বাবার কোলে নেই শক্তি, নেই সুস্থ শরীর। তবুও বুকভরা একটাই আকুতি এই শিশুটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। 

২০১৯ সালে উদ্দেশ আনসারীর কিডনি সমস্যার কথা প্রথম ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, উচ্চ রক্তচাপের কারণে একটি কিডনি ছোট হয়ে গেছে এবং অন্যটি অস্বাভাবিকভাবে বড়। উন্নত চিকিৎসার আশায় তিন দফা ভারতে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ভাগ্য যেন একের পর এক নিষ্ঠুর আঘাত হেনেছে।
শরীরের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে শুরু হয় ডায়ালিস। এখন পর্যন্ত ১৮ বার ডায়ালিস নিতে হয়েছে উদ্দেশকে। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় আসে সবচেয়ে ভয়ংকর খবর তার দুটি কিডনিই পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে।

চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। নচেৎ আজীবন ডায়ালিসই হবে তার নিয়তি। কিন্তু এই বিকল্পই এখন সবচেয়ে বড় অসহায়তা উদ্দেশের পরিবারের জন্য।

উদ্দেশ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়া পরিবারটি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। বাবা মো. ইসলাম পেশায় কাপড়ের লন্ড্রি করেন। সামান্য আয়ে কোনোমতে চলে সংসার। ছেলের চিকিৎসার জন্য জমা করা সব টাকা শেষ, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনের কাছ থেকে নেওয়া ধারেও আর কোনো কূলকিনারা নেই বাবার।

জানা গেছে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।

বাড়ির বেডে শুয়ে শিশুর দিকে তাকিয়ে কখনো বুকের কাছে ধরে কাঁদতে কাঁদতে তরুন এই বাবা উদ্দেশ বলেন, ‘ওর দিকে তাকালেই বুকটা ফেটে যায়। অন্তত এই বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। ও যেন আমাকে বাবা বলে ডাকতে পারে। ওর বাবাকে ওর দরকার।’

চোখের জল ধরে রাখতে পারেন না উদ্দেশ আনসারীর বাবা মো. ইসলামও। ভারী কণ্ঠে বলেন, ‘আমি একজন বাবা। ছেলেকে বাঁচাতে যা পারি করেছি। এখন আর কিছুই নেই। মানুষের সাহায্য ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। দয়া করে আমার সন্তানকে বাঁচান।’

একটি মধ্যবিত্ত পরিবার যারা কখনো কারও কাছে হাত পাতেনি। আজ পরিস্থিতি বাধ্য করেছে সবার কাছে হাত পাততে এমনটাই বলেছেন উদ্দেশের বন্ধুরা। বিলাসিতা নয়, কোনো চাওয়া-পাওয়ার গল্প নয় শুধু একটি শিশুর ভবিষ্যতের জন্য তার বাবার বেঁচে থাকার আকুতি। শিশু সন্তানের জন্য উদ্দেশ বাঁচতে চায়। 
সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন নিচের যে কোনো উপায়ে, বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৯৯২-১১৮৫০১
নগদ (পার্সোনাল): ০১৭৬৫-৬৭৭৮৯০, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: ০৫৫৩৪০০৫১৬৩ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সৈয়দপুর শাখা।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.