নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত সোমবার (১৮ মে) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের নারায়নপুর হাড়িভাঙ্গা বিলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের খবর টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দুটি ভেকু (খননযন্ত্র) ফেলে পালিয়ে যায়। পরে কাদা-মাটি পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভেকু দুটির ব্যাটারি জব্দ করেন।
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মিলম মিয়া, পিআইও আমিনুর রশীদ, আনসার বাহিনীর সদস্যসহ ইউএনও ও এসিল্যান্ড কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান প্রসঙ্গে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “ফসলি জমি ও সরকারি রাস্তা রক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে এবং অবৈধভাবে পুকুর খননের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও কেবল ব্যাটারি জব্দে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার চাঁচকৈড় এলাকার বাসিন্দা মো. আপেল সরকার ও রানা প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, শুধু ব্যাটারি জব্দ করলে অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধ হবে না। উপজেলার ধারাবারিষা, মশিন্দা ও কুমারখালি এলাকাতেও দেদারসে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে এবং ভারী ড্রাম ট্রাকে মাটি বহনের কারণে সরকারি রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও জানান, গত বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেকু জব্দ, বড় অঙ্কের জরিমানা ও মামলার মতো কঠোর পদক্ষেপ দেখা গেলেও এবার তেমন দৃশ্যমান সাজা দেওয়া হচ্ছে না। মোটা অঙ্কের জরিমানা ও নিয়মিত মামলা করা হলে তবেই এসব অপরাধ দমন করা সম্ভব। অবৈধভাবে ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় কৃষিজমি ও সরকারি অবকাঠামো চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









