রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

বোরো মৌসুমে সারের দামে ‘নীরব ডাকাতি’, অতিরিক্ত ব্যয়ে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

বোরো মৌসুমে সারের দামে ‘নীরব ডাকাতি’, অতিরিক্ত ব্যয়ে দিশেহারা কৃষক

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলাজুড়ে চলতি বোরো মৌসুমে নন-ইউরিয়া সারের বাজারে অস্থিরতা যেন প্রান্তিক কৃষকদের কাঁধে বাড়তি বোঝা হয়ে চেপেছে।

 ডিএপি ও এমওপি সারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। কৃষকদের দাবি এই অতিরিক্ত দামের চাপেই তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা, আর অনেকে পড়েছেন লোকসানের মুখে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ মৌসুমে ১৫ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৩৭ হাজার ৫০ একর বা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কাটার সমান। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কাঠায় গড়ে ৭ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি ব্যবহার হয়েছে। সেই হিসাবে উপজেলায় মোট ব্যবহৃত নন-ইউরিয়া সারের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫১ হাজার ৪৭০ বস্তা।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা গড়ে ৪৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। উৎপাদন খরচের এ অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে হতাশ কৃষকেরা বলছেন, “ফসলের বাজারদর আর খরচের হিসাব মেলে না। সার, বীজ, শ্রম সবকিছুর দাম বাড়ছে। এভাবে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
বারহাট্টার সাতটি ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, ক্রমাগত লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই বিকল্প পেশার কথা ভাবছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সারের বাজারে কঠোর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি ও দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ প্রসঙ্গে শারমিন সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বলেন ,“কৃষকদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। গত ২৮ জানুয়ারি বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ডিলারকে জরিমানা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই অভিযানের সময় কৃষি কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ফলে ‘অভিযোগ পাইনি’ এই বক্তব্য ঘিরে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, “খেত আমাদের, ঘাম আমাদের কিন্তু লাভ যায় অন্যের ঘরে।” বোরোর সবুজ স্বপ্ন তাই এখন সারের দামে বিবর্ণ হওয়ার শঙ্কায়।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.