স্বরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উপকূলের সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান নেয় সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ৫২ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে সাতক্ষীরা। জেলার আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হয়। তবে প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয়বার বেশ জোরে ঝাঁকুনি হয়। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় আতঙ্কে মুসল্লিরা অনেকে দৌড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। উপজেলার উত্তর হাজীপুর মসজিদের মুসল্লিরা জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্পে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জানা যায় ভূমিকম্পে মসজিদের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। হরিনগর চুনকুড়ি জামে মসজিদেও ফাটল দেখা গেছে বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা।
আব্দুর রশিদ ঢালী জানান, শংকরকাটি বায়তুন নুর জামে মসজিদের দেওয়ালে ভূমিকম্পে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার নকিপুর গ্রামের গৃহিনী শর্মিষ্ঠা রানী জানান, ভূমিকম্পে আতঙ্কে তার দু’সন্তান নিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে অবস্থান নেন। তার পাকা ঘরের দেওয়ালে বেশ ফাটল ধরেছে।
সোনামুগারী গ্রামের কিরণ শংকর চ্যাটার্জী বলেন, বসতঘরের পাকা দেওয়ালে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর দাখিল মাদ্রাসা ও পাতাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পিলার ও দেওয়ালে ভূমিকম্পে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে, প্লাস্টার ধ্বসে পড়েছে কিছু স্থানে যা ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইতিপূর্বে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তারা দেখেননি। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল পাশ্ববর্তী উপজেলা আশাশুনি হওয়ায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা মতামত প্রকাশ করেন। যার কারণে মানুষের মধ্যে বেশ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
মুন্সিগঞ্জ ইউপির জেলেখালীর বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সের নিরঞ্জন মন্ডল জানান, তার বয়সে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখেন নাই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









