নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পিঁপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করলে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন পিঁপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলী, তার পরিবারের তিন সদস্য এবং প্রতিপক্ষ একই ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি লিটন ও রিপনসহ অন্তত ছয়জন। গুরুতর আহত রিপনের হাতের দুটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এছাড়া আরব আলীও মারাত্মকভাবে আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত রিপন ও আরব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও একাধিকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজকের ঘটনায় উভয় পক্ষই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করায় হতাহতের আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়।
জেলা যুবদলের সভাপতি এ এইচ তালুকদার ডালিম বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয় বরং দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এর আগেও তাদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, ‘দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









