নাটোরের গুরুদাসপুরে হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত নেতাকে পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নাটোর জেলা যুবদল-এর এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জেলা সভাপতি এ. হাই তালুকদার ডালিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান আনিসের স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তে রাকিবুর রহমান রাজাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম তপু (৩৯) গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে একই এলাকার মো. রাকিবুর রহমান রাজা (৩৫) তার কাছে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে চন্দপুর তুলাধুনা হাটে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং সেখানে গেলে “মেরে হাড্ডি গুড়া গুড়া করে ফেলবে” বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তপু জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত জিডি করেছেন। অভিযুক্ত রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুলাধুনা বাজারের ইজারা নেওয়া নিয়ে রাজা ও তপু উভয়েই দরপত্রে অংশ নেন। তপু বেশি মূল্যে সিডিউল জমা দিয়ে হাটটির ইজারা পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে টাকা সংক্রান্ত হুমকিসূচক বক্তব্য শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজা বলেন, “গত বছর আমরা যৌথভাবে ব্যবসা করেছি। তার পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল, সেটিই চেয়েছি। কোনো ধরনের হুমকি বা চাঁদা দাবি করিনি। একটি মহল আমার মানহানি ও ইমেজ নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।”
জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৯টি হাটবাজারের ইজারার মধ্যে ছয়টিতে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। অধিকাংশ হাটে একটি করে দরপত্র জমা পড়ে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, “চাঁদা দাবির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবে এলাকায় গেলে ‘মেরে হাড্ডি গুড়া গুড়া করে ফেলবে’ এমন হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা লিখিত জিডি গ্রহণ করেছি। দ্রুত সময়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









