নদীতে পানি নেই, আছে মাইলের পর মাইল তপ্ত বালু। যে যমুনা একসময় পলি জমিয়ে চরের বুকে সোনা ফলাত, সেই যমুনাই এখন যাতায়াতের পথে প্রধান কাঁটা। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর ভয়াবহ নাব্যতা সংকটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা। চরের তপ্ত বালু ঠেলে আটটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার টন কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানোর একমাত্র অবলম্বন এখন ‘ঘোড়ার গাড়ি’।
অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য বিশেষ ধরনের টেকসই রাস্তা বা বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ডিসেম্বর মাস থেকেই যমুনা নদীর পানি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে উপজেলার চারটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ এবং আটটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকা জুড়ে বিশাল মরুভূমির মতো বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো প্রকার যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়িই এখন কৃষকদের শেষ ভরসা।
সরেজমিনে চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মালবাহী ঘোড়ার গাড়ি তপ্ত বালু দিয়ে ফসল নিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, জমিতে সার ও কীটনাশক নেওয়া থেকে শুরু করে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে হচ্ছে এই ধীরগতির যানে।
সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়ার কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে মরিচ ও ভুট্টা আবাদ করেছি। নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় ফসল নিতে পারছি না। মাত্র ৩ কিলোমিটার বালুচর পাড়ি দিতে এক বস্তা মরিচের জন্য ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে ১২০ টাকা। এরপর নদী পাড় হয়ে আবার অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে বাজারে নিতে হয়। এতে লাভের বড় অংশই চলে যাচ্ছে ভাড়ায়।
চলতি রবি মৌসুমে সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসলের ফলন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আদিম পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ ফসল বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাজারো কৃষক। তাদের দাবি, বালুচরে যদি সরকার বিশেষ ধরনের (যেমন ইটের সলিং বা হেরিংবোন বন্ড) রাস্তার পরিকল্পনা করে, তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে পারত। এতে পরিবহন খরচ কমে সবজির দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকত।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, নাব্যতা ও চরাঞ্চলের পরিবহন সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম চরাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে কানেকটিভিটি সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের এই চরম ভোগান্তি লাঘব হবে।
চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









