বিশিষ্ট কবি, লোকবিজ্ঞানী, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ড. আশরাফ সিদ্দিকী। ১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর নাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলা সাহিত্য ও লোকঐতিহ্য চর্চায় তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও প্রেরণাদায়ী।
শৈশব থেকেই জ্ঞানপিপাসু আশরাফ সিদ্দিকী শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫০ সালে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়।
তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশর প্রেসিডেন্ট। এছাড়া নজরুল একাডেমির আজীবন সদস্য ও নজরুল ইনস্টিটিউটর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ স্মৃতিসংঘ, ঢাকার সভাপতিও ছিলেন।
ড. আশরাফ সিদ্দিকীর সাহিত্যকর্মের পরিসর বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। তিনি পাঁচ শতাধিক কবিতা, অসংখ্য প্রবন্ধ এবং ৭৫টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। লোকসাহিত্য গবেষণায় তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে লোকসাহিত্য ‘বেঙ্গলি ফোকলোর’, ‘আওয়ার ফোকলোর আওয়ার হেরিটেজ’, ‘ফোকলোরিক বাংলাদেশ’, ‘কিংবদন্তীর বাংলা’, ‘ভোম্বল দাশ’, ‘দ্য আঙ্কল অব লায়ন এবং টুনটুনি অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’, ‘রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন’, ‘প্যারিস সুন্দরী’ ইত্যাদি। বাংলা লোকঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও ইউনেস্কো পুরস্কার, দাউদ পুরস্কারসহ মোট ৩৬টি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।
দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ। তবে বাংলা সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ও গবেষণার অঙ্গনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লোকঐতিহ্যের এই প্রজ্ঞাবান সাধকের জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









