আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ২ টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে, রেলভবন, ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২১ মার্চ (শনিবার) যাত্রী পরিবহনের জন্য থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীচাপ বিবেচনায় ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু আন্তঃনগর ট্রেনের অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। একইসঙ্গে ঈদের পূর্বে ১৭ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ এবং ঈদের পরে ২৩ থেকে ২৬ মার্চ স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা হবে। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পার্বতীপুর স্পেশাল এবং জয়দেবপুর স্পেশাল দুটি ট্রেন চালাবে।
পার্বতীপুর স্পেশাল: ট্রেনটি পার্বতীপুর থেকে ছাড়বে সকাল ১১:০০ মিনিটে, পৌঁছাবে জয়দেবপুরে বিকাল ৩:২০ মিনিটে । জয়দেবপুর থেকে ছাড়বে বিকাল ৫:১০ মিনিটে, পৌঁছাবে পার্বতীপুরে রাত ৯:৪০ মিনিটে ।
জয়দেবপুর স্পেশাল: এই ট্রেনটি জয়দেবপুর থেকে ছাড়বে সকাল ৮:৩০ মিনিটে, পৌঁছাবে পার্বতীপুরে দুপুর ১২:৫০ মিনিটে । পার্বতীপুর থেকে ছাড়বে দুপুর ২:৫০ মিনিটে, পৌঁছাবে জয়দেবপুরে সন্ধ্যা ৭:১০টায়।
ট্রেনগুলো উত্তরবঙ্গের প্রধান স্টেশনসমূহ চাটমোহর, ঈশ্বরদী বাইপাস, নাটোর, আহসানগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। একেকটি ট্রেনে মোট আসনসংখ্যা থাকবে প্রায় ৭৮৬টি। যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী কোচ সংখ্যা সমন্বয় করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
১৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে আরো জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, বিশেষ ট্রেন পরিচালনা এবং লোকোমোটিভ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। চাহিদা অনুযায়ী যাত্রীবহুল ট্রেনগুলোতে বাড়তি চেয়ার ও স্লিপার কোচ যুক্ত করা হবে, যাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করে পর্যাপ্ত সংখ্যক কোচ ও লোকোমোটিভ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-চিলাহাটি, ঢাকা-পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রীচাপ বিবেচনায় অতিরিক্ত সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরনো কোচগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, টিকিট বিক্রয় কার্যক্রমও নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুরু হবে। অনলাইন ও কাউন্টার দুই মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ৩ মার্চ থেকে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ১৩ থেকে ১৯ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে দুপুর ২টা থেকে।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদেরও সময়মতো স্টেশনে উপস্থিত থাকা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়াও টিকিট বিক্রি, নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে অফিস জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়ন থাকবে, পাশাপাশি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ মুখে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে ট্রাফিক সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, জোনাল কন্টোলও বিভাগীয় কান্টোল অফিসের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ট্রেনের ভিতরে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে স্পেশাল চেকিং প্রগাম থাকবে। রেলপথ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে থাকবে বিশেষ নজর।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন,“আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের আরামদায়ক ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আমরা অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আশা করছি এবারের ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তি’র ও আনন্দের। আমরা পাশাপাশি রেলওয়ের যাত্রীদের কাছে থেকেও সবাত্নক সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি, যাত্রীরা যেন নিয়ম মেনে রেল ভ্রমণ করেন।”
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এ উদ্যোগে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









