সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া-এ রেলপথ ঘিরে শিমুল ফুলের সাজে সেজেছে প্রকৃতি। ঘাটিনা রেলসেতু থেকে সলপ স্টেশন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এবং ঘাটিনা রেলসেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত নদীর দুই পাড়জুড়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারি সারি শিমুলগাছে ফুটে উঠেছে লাল বর্ণের ফুল।
বসন্তের এই মৃদু বাতাসে দুলছে শিমুল ফুল, ছড়িয়ে পড়ছে ফুলের ঘ্রাণ। শিমুল ফুলের আকর্ষণে হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে এখানকার রেলপথ। শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সী ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে উল্লাপাড়া উপজেলাটি প্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থানটি যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের হাতছানি দেয়। বহু দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসেন সুন্দর প্রকৃতিকে অনুভব করতে ও ছবি তুলতে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে বিকেলে ঘাটিনা এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগমে বাড়ে আনন্দ।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের আনন্দের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন মেলার সামগ্রী নিয়ে বসে ছোটখাটো মেলা। এতে ভিড় জমায় নানা বয়সী মানুষ।
প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করে বেড়াতে আসা এক দম্পতি জানান, উল্লাপাড়া উপজেলাকেন্দ্রিক যতগুলো পর্যটনকেন্দ্র আছে, বিশেষ করে বসন্ত মৌসুমে সলপ স্টেশনের অদূরে ঘাটিনা রেলসেতু-সংলগ্ন এলাকায় সারি সারি শিমুলগাছ দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে প্রচুর শিমুল ফুল ফুটে এক অসাধারণ সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বসন্তকালে এখানে বেড়াতে আসেন। সব শ্রেণির মানুষই এখানে আসেন। বসন্তের রঙিন ফুলের সমারোহে রঙিন অনুভূতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। খুবই ভালো লাগছে।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এসে খুব ভালো লাগছে বলেও জানান তারা। এখানে দর্শনার্থীরা নানা ভঙ্গিতে ফটোশুট করছেন; চারদিকে রঙিন ফুলের সমারোহ—সব মিলিয়ে মনে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা রাত্রি নামের এক দর্শনার্থী বলেন, আমরা ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে জায়গাটি দেখেছি। চারপাশে সুন্দর গাছগাছালি থাকায় মানুষ জায়গাটি খুব পছন্দ করে। পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য এটি উপযুক্ত স্থান।

শিমুল ফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে আসা সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, পড়ন্ত বিকেলে এখানে এসে এত মনোমুগ্ধকর পরিবেশ অনুভব করতে পারব—কখনো ভাবিনি। শিমুল ফুলের সৌন্দর্য, পাখির কিচিরমিচির আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে আমি খুবই খুশি।
একজন আলোকচিত্রী নাদিম আহমেদ বলেন, শিমুল ফুলের সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন। আমার কাছে এটি অসাধারণ একটি দর্শনীয় স্থান মনে হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









