বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

কিশোরগঞ্জের ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

কিশোরগঞ্জের ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক প্রতিবেদনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে কিশোরগঞ্জ জেলার ২টি কলেজ, ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসাসহ মোট ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে উঠে এসেছে জালিয়াতি, ভুয়া নিয়োগ ও সরাসরি অর্থ আত্মসাতের তথ্য।

ডিআইএ’র পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত তদন্তে এসব ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জাল সনদ ও ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ডিআইএ’র যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর মো. ইদ্রিস আলী জানান, “বিগত ছয় মাসে আমাদের টিম সরেজমিন তদন্ত চালিয়ে শিক্ষকদের নিবন্ধন ও বিএডসহ বিভিন্ন সনদ জাল হিসেবে শনাক্ত করেছে। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠিয়েছি।”

তদন্ত প্রতিবেদনে কিশোরগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী জেলার বাজিতপুর উপজেলার সর্বাধিক ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—উত্তর পিরিজপুর বিএম কলেজ, ডুয়াইগাঁও সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিঘীরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজিতপুর রাজ্জাকুন্নেছা (আরএন) সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

কুলিয়ারচর উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—ফরিদপুর ইউনিয়ন আ. হামিদ ভুঞা উচ্চ বিদ্যালয় ও মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও রয়েছে করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কটিয়াদী উপজেলার কটিয়াদী সরকারি কলেজ এবং মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

ডিআইএ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস এবং প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুনানির মাধ্যমে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অভিযুক্ত করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি জানিয়ে বলেন, ২০১৯ সালের পর মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের জন্য জঙ্গলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে কেউ আসেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে আমি বিস্মিত। সঠিক তথ্য জানার জন্য এ মাসের চার তারিখ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এখনও কোনো জবাব পাইনি।

কিশোরগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার মাকছুদা বলেন, আমরা ডিআইএ’র চিঠি পেয়েছি। এতে জেলার ২টি কলেজ, ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসার নাম উল্লেখ রয়েছে। কোন কোন শিক্ষক জড়িত—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

টিআর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.